পেঁয়াজের দাম কমায় লোকসানের শঙ্কায় কৃষকেরা




শরীয়তপুরে এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। বাজারে মুড়িকাটা পেঁয়াজও উঠছে। এসবের প্রভাবে পেঁয়াজের দাম কেজিতে অন্তত ৭০ টাকা কমেছে। এতে লোকসানের শঙ্কায় চাষিরা। তাদের দাবি, আমদানি করা পেঁয়াজ বাজারে আসায় দাম পড়ে যাচ্ছে। কৃষকদের উৎপাদিত পেঁয়াজের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতের জন্য ভরা মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হলে কৃষক কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবেন বলে মনে করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।

শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, জেলার ছয় উপজেলার কম-বেশি পেঁয়াজের আবাদ হলেও জাজিরা-নড়িয়ায় আনুপাতিক হারে বেশি আবাদ হয়। চলতি মৌসুমে জেলায় পেঁয়াজের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল চার হাজার ১২০ হেক্টর। আর আবাদ হয়েছে চার হাজার ২৮০ হেক্টর। এর মধ্যে মুড়িকাটা বা কন্দ পেয়াজ তিন হাজার ৮৬০ হেক্টর ও হালি পেয়াজ ৪২০ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছে।


এ বছর উৎপাদন খরচ বাড়ায় মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষে লাভবান হতে পারছেন না কৃষক। তবে ভরা মৌসুমে পেয়াজ আমদানি বন্ধ করলে কৃষক কিছুটা লাভবান হতে পারে। আমরা কৃষকদের সবসময় পরামর্শ দিয়ে থাকি মৌসুমের শুরুতে যদি পেঁয়াজের আবাদ করা যায় তাহলে তারা লাভবান হতে পারবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাঠজুড়ে চলছে মুড়িকাটা পেঁয়াজ তোলার ধুম। মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টিপাত হওয়ায় মোটা টাকা খরচ করে বেশ কয়েকবার পেঁয়াজ বীজ কিনে রোপণ করেছেন চাষিরা। এতে বেড়ে দাঁড়িয়েছে তাদের উৎপাদন খরচ। আর ভালো ফলনে কিছুটা হলেও লাভের আশা করেছিলেন তারা। তবে বাজারে পেঁয়াজের তেমন দাম না পাওয়ায় হতাশ চাষিরা। প্রতি বিঘায় লস হচ্ছে অন্তত ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। আর দরপতনের কারণে বিক্রির উপযোগী হলেও অনেকেই জমি থেকে তুলছেন না পেঁয়াজ। বর্তমানে অনেক চাষি মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন আবাদ থেকে।

নড়িয়া মোক্তারের চর ইউনিয়নের বেপারি কান্দি এলাকার কৃষক মজিবর শেখ। চলতি মৌসুমে একবিঘা জমিতে করেছেন মুড়িকাটা পেয়াজের আবাদ। বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও কৃষাণ খরচ নিয়ে তার উৎপাদন খরচ এসেছে অন্তত ৮০ হাজার টাকা। উৎপাদন ভালো হলেও বাজারমূল্য হিসেবে সেই জমির পেয়াজ বিক্রি করতে পারবেন মাত্র ৪৫ হাজার টাকা। এতে মোটা অংকের লোকসানের আশংকা এ চাষির। তাই কিছু জমির পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন আর কিছু পরিপক্ব হলেও দরপতনে তুলছেন না এ কৃষক।

জানতে চাইলে তিনি বলেন, পেঁয়াজের যে দাম তাতে আমাগো লস হইতাছে। এ কারণে পেঁয়াজ উঠানো বন্ধ রাখছি। যদি বাজার পরিস্থিতি ঠিক হয় তাহলে আবার উঠামু। এখন কৃষক যদি লাভ না হই তাহলে খরচ কইরা বদলি কামলা দিয়া কিভাবে পেঁয়াজ চাষ করবো।

জাজিরার কাজিরহাট বাজার এলাকার কৃষক হাসেম বলেন, এ বছর পেঁয়াজে এমন ধরা খামু বুঝতে পারিনাই। অনেক টাকা দিয়া বীজ কিইন্না চাষ করছি। এখন বাজারে পেঁয়াজের যে দাম সেই দামে লাগানোর খরচ উঠবো না। এমন হইলো আমরা কৃষক কীভাবে পরিবার নিয়া বাঁচমু।


সাহাদাত হোসেন নামের এক পেয়াজ চাষি বলেন, মুড়িকাটা পেঁয়াজে লস হইছে। তাই কিছু জমিতে নতুন করে হালি পেঁয়াজ আবাদ করছি। সামনের ঈদে যদি পেঁয়াজের দাম ভালো হয় তাহলে কিছুটা ক্ষতি পুষে উঠতে পারমু। তবে সরকারের কাছে একটাই দাবি সামনে যেন অন্য দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি না করে।


এ ব্যাপারে জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন বলেন, এ বছর উৎপাদন খরচ বাড়ায় মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষে লাভবান হতে পারছেন না কৃষক। তবে ভরা মৌসুমে পেয়াজ আমদানি বন্ধ করলে কৃষক কিছুটা লাভবান হতে পারে। আমরা কৃষকদের সবসময় পরামর্শ দিয়ে থাকি মৌসুমের শুরুতে যদি পেঁয়াজের আবাদ করা যায় তাহলে তারা লাভবান হতে পারবে।




Copied from: https://rtvonline.com/

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন